lol

Freelance Jobs

Saturday, January 9, 2010

মনপুরা

মনপুরা


আজ পহেলা ফাল্গুন। ঋতুরাজ বসন্ত সব সময়ই আমাদের কাছে প্রিয় হয়ে ধরা দেয় তার অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দিয়ে। এ সৌন্দর্যকে আরেকটু রাঙিয়ে দিতে আজ মুক্তি পাচ্ছে চিরন্তন বাংলার প্রেমের মুভি মনপুরা। মুভির নাট্যকার ও পরিচালক গিয়াস উদ্দিন সেলিম। মুভির প্রধান দুই চরিত্র সোনাই ও পরীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন চঞ্চল চৌধুরী ও ফারহানা মিলি।
মনপুরা মুভির নায়ক সোনাই এক আশ্রয়দাতার বাড়িতে কাজ করে। কোনো একদিন আশ্রয়দাতার ছেলে গ্রামের একজনকে খুন করে। ছেলের এ খুনের দায় নিতে বলে আশ্রয়দাতা সোনাইকে। সোনাইও ঋণের দায় শোধ করার জন্য খুনের দায় মাথায় নিয়ে পারি জমায় কোনো এক অজানা দ্বীপ মনপুরার উদ্দেশে। সকালে গ্রামের সবাই জানতে পারে সোনাই খুন করে পালিয়ে গেছে। মনপুরা দ্বীপে মাছ শিকার করতে আসে হামিক মাঝি। সঙ্গে তার মেয়ে পরী। পরিচয় হয় সোনাইর সঙ্গে। প্রথম দেখাতেই দু’জন দু’জনকে ভালোবেসে ফেলে। এ ভালোবাসার জন্য একদিন পরী নিজের জীবন উৎসর্গ করে। এমনই এক প্রেমের কাহিনী নিয়ে নির্মিত হয়েছে মনপুরা মুভিটি।

চঞ্চল চৌধুরী জিজ্ঞাসা করলো ফারহানা মিলিকে, আচ্ছা এক কথায় বলতো মনপুরা বলতে তুমি কি বুঝ? মিলি একটু হেসে বললেন, তুমি যা বুঝ আমি তাই বুঝি। চঞ্চল, আমার কাছে মনপুরা একটা স্বপ্ন। নিশ্চয়ই দুঃস্বপ্ন না। আনন্দের স্বপ্ন এবং যে স্বপ্ন মানুষ দেখতে চায়। ঠিক এরকম একটি স্বপ্ন।
চঞ্চল চৌধুরীর এটা দ্বিতীয় মুভি। জানতে চাওয়া হলো প্রথম ও দ্বিতীয় মুভির চরিত্রগত পার্থক্য কি রকম ছিল। প্রত্যুত্তরে চঞ্চল বলেন, চরিত্রগত পার্থক্য তো অবশ্যই আছে। গল্প ও নির্দেশক সবই ভিন্ন। ফলে চরিত্রগত পার্থক্য ছিল সবচেয়ে বেশি। তৌকীর আহমেদের নির্দেশনায় রূপকথার গল্প মুভিতে আমার চরিত্র ছিল একটা বাচ্চার ওপর আমাদের দায়বদ্ধতা। প্রথমত ছিল বাঁচার লড়াই তারপর বাচ্চাটাকে নিয়ে লড়াই। মোটকথা রূপকথার গল্প মানুষের দায়বদ্ধতার গল্প। আর মনপুরা একটা প্রেমের গল্প। সোনাই ও পরীর প্রেমের গল্প। আমার বেড়ে ওঠার প্রথম সিঁড়ি হচ্ছে রূপকথার গল্প আর দ্বিতীয় সিঁড়ি হচ্ছে মনপুরা।
মিলির কাছে জানতে চাওয়া হলো, এই প্রথম বড় পর্দায় কাজ করলেন। কেমন অভিজ্ঞতা হলো? মিলি উত্তর দেয়ার আগেই চঞ্চল বলে উঠলো, বড় পর্দা মানে সব কিছুই বড় বড়! বড় ক্যামেরা, বড় লাইট, বিশাল ইউনিট প্রভৃতি। আমি মুভিতে কাজ করার পর নাটকে যখন কাজ করতাম, তখন মনে হতো নাটকের ক্যামেরাগুলো এতো ছোট কেন? লাইটগুলোকেও ছোট মনে হতো।
মিলি জানালেন, মুভিতে কাজ করা এটাই আমার জন্য প্রথম হলেও আমি কিছু বিজ্ঞাপনে কাজ করেছি যেখানে ৩৫ মিলিমিটার ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে। সে সুবাদে একটু ধারণা ছিল বড় পর্দার কাজ সম্পর্কে। প্রথমে একটু ভয়ও ছিল কাউকে তেমন চিনি না, নদীতে সাঁতার কাটতে হবে এসব নিয়ে। তবে ইউনিট আমাকে প্রচুর সাপোর্ট দিয়েছে।
এরই মাঝে চঞ্চল চৌধুরী বলেন, মনপুরার সব ইউনিটের কাছে অবশ্য আমাদের কৃতজ্ঞতা। কারণ ইউনিটের প্রোডাকশন বয় থেকে শুরু করে সবার মধ্যেই তখন শুধু ছিল মনপুরা। এটা ছিল শুটিং এর সময়। আর এখন মনপুরা সারা দেশের মানুষের। যারাই এ মুভি দেখবে সে মনপুরার ভাগিদার হয়ে যাবে। মনপুরার গান যারা শুনেছে তারা যেমন অংশীদার মনপুরার ঠিক মুভি দেখতে এলেও মনপুরার অংশীদার হয়ে যাবে।
গানের প্রসঙ্গ নিয়ে জানতে চাওয়া হলে তারা জানান, মুভির অডিও সিডির একটি গানে চঞ্চল চৌধুরী কণ্ঠ দিয়েছেন আর ফারহানা মিলি গান না গাইলেও কোরাসে অংশ নিয়েছেন। চঞ্চল জানান, এটা যেহেতু সিনেমার জন্য গান তাই ভয়টা একটু বেশি কাজ করেছে। যেহেতু আমি খুব ভালো গান পারি না আসলে এটা চরিত্রের জন্যই গাইতে হয়েছে। এর আগে নাটক ও একটি মোবাইল কোম্পানির বিজ্ঞাপনে গান গেয়েছিলাম সেটাও চরিত্রের প্রয়োজনে গাওয়া। আর আমার জানা মতে মনপুরার গানগুলো অনেকের কাছেই ভালো লেগেছে। তাদের উদ্দেশে বলবো গানগুলো হলো বাড়তি পাওনা আসল আকর্ষণ মুভিতেই। তবে পুরো মুভিটিতে মিলি অসাধারণ অভিনয় করেছে।
মিলির কাছে জানতে চাওয়া হলো চঞ্চল চৌধুরী তো আপনার অভিনয়ের প্রশংসা করলো আপনি তার একটু সমালোচনা করেন। সঙ্গে সঙ্গে ফারহানা মিলি বলে উঠলো, মনপুরার শুটিংয়ের প্রথমদিকে কোনো এক প্রসঙ্গে চঞ্চল ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলতে বলতে আমাকে উনি বললেন, তুমি এটা বুঝবা না, তোমার বয়স হয়নি! তখন আমার খুব রাগ হয়েছিল। মিলির কথা শুনে চঞ্চল কৈফিয়ত দেয়ার মতো করে বললো, শুরু থেকেই আমার ইচ্ছা ছিল মিলিকে একটু রাগাবো এবং একটা মান অভিমান সৃষ্টি করবো। কারণ মুভিটিতে সে আমার প্রেমিকা সুতরাং তার কথাবার্তা ও চাহনিতে একটু প্রেমিকা প্রেমিকা ভাব থাকতে হবে। এখনো সারাক্ষণ আমাকে চঞ্চল ভাই বলে ডাকছে। ক্যামেরার সামনে যেয়েও তখন ডায়ালগগুলো ভাইবোনের মতো হয়ে যাবে! তাই ওকে একটু ফ্রি করার জন্যই এটা করেছি।
ছোট পর্দার কাজের খবর জানতে চাওয়াতে মিলি বলেন, বর্তমানে আমি কেবল ইট কাঠের খাঁচা ধারাবাহিকে কাজ করছি। মাঝে কোনো কাজ হাতে নেইনি মুভির জন্য। অবশ্য এর মাঝে বাংলালিংকের বিজ্ঞাপনটি করেছিলাম। চঞ্চল জানালো, আমি তো অভিনয়কে পেশা হিসেবে নিয়ে নিয়েছি তাই কাজ করতে হয়েছে। তবে অনেক বেছে বেছে কাজ করার চেষ্টা করেছি। আর মুভি উপলক্ষে এ মাসে তেমন একটা শুটিং রাখিনি কারণ সবাইকে সময় দিতে হবে। আর দর্শকদের বলবো, মনপুরা কোনো একটা শ্রেণীর মানুষের জন্য করা হয়নি দেশের সব মানুষকে মাথায় রেখেই নির্মাণ করা হয়েছে। এটা এককভাবে কাউকে উদ্দেশ্য করে বানানো হয়নি। আপামর দর্শকদের দেখার মতো এবং চোখ জুড়ানোর মতোই মুভি মনপুরা

No comments:

Post a Comment

A